লাইটার কার্গো জাহাজের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট চলার কারণে নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে বেড়েছে আটা-ময়দার দাম। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত ১০-১২ দিনের ব্যবধানে বাজারে গমের দাম বেড়েছে মণপ্রতি ২৫-৩০ টাকা, যার প্রভাব পড়েছে আটা-ময়দার বাজারে।
নিতাইগঞ্জে গতকাল খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাজারে ইউক্রেনের লাল গম বেচাকেনা হচ্ছে প্রতি মণ ১ হাজার ৩৫০ থেকে ১ হাজার ৩৬০ টাকা দরে। এক সপ্তাহ আগেও যা ছিল ১ হাজার ৩৩০ থেকে ১ হাজার ৩৪০ টাকা।
অন্যদিকে কানাডা ও রাশিয়ার গম মণপ্রতি ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে বেচাকেনা হচ্ছে। ১০-১২ দিন আগেও একই মানের গমের দাম ছিল ১ হাজার ৪৫০ থেকে ১ হাজার ৪৬০ টাকা।
বাজারে ভালো মানের আটা বেচাকেনা হচ্ছে বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) ১ হাজার ৮২০ টাকায়। একই আটা গত সপ্তাহে ছিল ১ হাজার ৭৫০ থেকে ১ হাজার ৭৮০ টাকা। সে হিসাবে ভালো মানের আটার দাম বস্তাপ্রতি বেড়েছে প্রায় ১০০ টাকা।
নারায়ণগঞ্জে কিছুটা নিম্নমানের আটা বেচাকেনা হচ্ছে বস্তাপ্রতি ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৭৫০ টাকায়। কিছুদিন আগেও যা ছিল ১ হাজার ৭০০ টাকা।
অঞ্চলটিতে ময়দার দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। ভালো মানের ময়দা বাজারে বেচাকেনা হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও পণ্যটির দাম ছিল ২ হাজার ৩৫০ থেকে ২ হাজার ৪৫০ টাকা। এ হিসাবে ভালো মানের ময়দার দাম ১০০-১২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
নিতাইগঞ্জের সিকদার ফ্লাওয়ার মিলের ম্যানেজার শংকর দাস জানান, সাধারণত শীত মৌসুমে বাজারে আটা-ময়দার দাম কিছুটা বাড়তি থাকে। তবে সিন্ডিকেটের কারণে এক সপ্তাহ ধরে বাজারে গমের দাম ঊর্ধ্বমুখী। তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আটা-ময়দা বেচাকেনা করতে হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ আটা ময়দা ফ্লাওয়ার মিল মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি শেখ ওয়াজেদ আলী বাবুল জানান, দুদিন ধরে পণ্য পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘট চলছে। এর মধ্যে গম আমদানিকারক সিন্ডিকেট মণপ্রতি গমের দাম ২০-৩০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে আটা-ময়দার দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।